Showing posts with label Online News. Show all posts
Showing posts with label Online News. Show all posts

Wednesday, September 28, 2016

মন ভেঙে গেছে জিদানের!

টানা তিন ম্যাচ ড্রয়ে হতাশ জিদান। ছবি: রয়টার্স।ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান নিজের হতাশায় আচ্ছন্ন চেহারাটা গোপন করতে পারলেন না। চ্যাম্পিয়নস লিগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে দুবার এগিয়ে গিয়েও ২-২ গোলে ড্রয়ের পর একটি কথা তিনি বললেন বেশ কয়েকবার, ‘হৃদয়বিদারক।’

কথাটার ব্যাখ্যাও দিলেন ফরাসি কোচ, ‘পুরো ব্যাপারটাই হৃদয়বিদারক। কারণ এই ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছি। যা করতে চেয়েছি, সেটাই করেছি। রক্ষণ দারুণ খেলেছে। ভালো খেলেছে আক্রমণও। কিন্তু দিনের শেষে সেই একই ফল। গত তিনটি ম্যাচেই একই ফল। আমার হৃদয়টা ভেঙে গেছে, খেলোয়াড়দের কারণেই। ওদের প্রাপ্যটা ওরা পায়নি।’

মনটা খারাপ হয়ে গেলেও মাথা উঁচুই রাখছেন জিদান, ‘ম্যাচটা আমরা ভালো খেলেছি। দিনের শেষে ড্রটাও খুব মন্দ কিছু নয়। তবে ভালো খেলেও জয় না পাওয়ায় সবার মন খারাপ।’

টানা তিনটি ম্যাচে জিততে পারেনি রিয়াল। স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনার টানা ১৬ জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাপিয়ে যেতে পারেনি তারা; বরং বার্সেলোনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ম্যাচটি থেকেই ভাগ্য বিপর্যয়ের শুরু। লা লিগায় পরপর দুটো ম্যাচে ড্র করে লিগের পয়েন্ট টেবিলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনাকে কাঁধে নিশ্বাস ফেলতে দেওয়ার দায়ও রিয়ালেরই। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে জেতার অবস্থানে থেকেও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়াটা রিয়াল–সমর্থকদের মন খারাপ করে দিচ্ছেই।

পুরো ব্যাপারটি খেলারই অংশ মনে করেন জিদান, ‘ফুটবল খেলাটিই মাঝেমধ্যে এমন হয়ে যায়।  খেলাটিই এমন যে মাঝেমধ্যে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আমরা মাথা নিচু করছি না। আমরা এগিয়ে যাব। যেভাবে এগোনো শুরু করেছি। আমরা অবশ্যই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’

নিজেদের মাঠে অবশ্য ভালোই খেলেছে ডর্টমুন্ড। ম্যাচের প্রথম থেকেই রিয়ালকে চেপে ধরে তৈরি করেছে একের পর এক সুযোগ। রিয়াল গোলকিপার কেইলর নাভাস যেন চীনের প্রাচীর হয়ে উঠেছিলেন ডর্টমুন্ড ফরোয়ার্ডদের সামনে। তবে খেলার ধারার বিপরীতে ১৭ মিনিটে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে নেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের এই গোলে অবদান ছিল রিয়াল ফরোয়ার্ডদের দারুণ বোঝাপড়া। শেষ পাসটি রোনালদোর দিকে বাড়িয়েছিলেন অবশ্য গ্যারেথ বেলই। এটি ছিল রোনালদোর ৯৫তম চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল।

৪৩ মিনিটে গোলটি শোধ করে দেন পিয়েরে এমরিক আবেমেয়াং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও রিয়ালের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দেয় ডর্টমুন্ডের একের পর এক আক্রমণ।

৬৮ মিনিটে রিয়ালকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন রাফায়েল ভারানে। এটি অবশ্য হতে পারত করিম বেনজেমারই গোল। তাঁর শট বারে লেগে ফেরত এলে ফিরতি বলে গোল করেন ভারানে। ৮৭ মিনিটে আন্দ্রে শুরলের দুর্দান্ত এক শটে জয়বঞ্চিত হয় রিয়াল।

ভালো খেলেছে দল, জয়ও পেতে পারত। কিন্তু রিয়ালের কাছ থেকে ২ পয়েন্ট কেড়েও খুশি ডর্টমুন্ড কোচ টমাস টাচেল। দুবার পিছিয়ে পড়েও দলের খেলায় ফেরার ব্যাপারটিই তাঁকে আনন্দিত করছে সবচেয়ে বেশি, ‘দুবার পিছিয়ে পড়েও খেলায় ফেরার ব্যাপারটিই ভালো লাগছে। আমরা তো আর হারিনি! তবে যে খেলা খেলেছি ডর্টমুন্ড কিন্তু জিততেও পারত।’

টাচেলের মতে, দ্বিতীয়ার্ধে ডর্টমুন্ড খারাপ খেলেছে। তবে দলের মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে, ‘দ্বিতীয় গোলের পর আমরা মানসিকভাবে চাঙা ছিলাম। আমরা দৃঢ়তাপূর্ণ ফুটবল খেলেছি।’  সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

Tuesday, September 27, 2016

কঠিন অংশটা চলে গেছে’



বাজে ফিল্ডিং, থিতু হয়েও ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস খেলতে না পারা, অতঃপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয়। কাল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশ জুড়েই থাকল সিরিজের প্রথম ম্যাচ। যেটিতে জিতলেই সিরিজ জেতা হয়ে যাবে, সেই দ্বিতীয় ম্যাচটাও উঁকি দিল মাঝেমধ্যে। কাল দুপুরে মিরপুরে বাংলাদেশ অধিনায়কের ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচিত অংশ—
 মাশরাফি বিন মুর্তজা। কাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে l প্রথম আলো
সিরিজ জয়ের ম্যাচ
শরাফি বিন মুর্তজা: দ্বিতীয় (আজ) ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ম্যাচটা জিতলে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলা
কতটা চাপ
মাশরাফি: দেখবেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড যখন আমাদের সঙ্গে খেলে, তখন ওদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক। শেষ ম্যাচে যেটা ভালো লেগেছে, ম্যাচটা ৯০ ভাগ ওদের কাছেই ছিল, সেখান থেকে ফিরে এসে ম্যাচ জেতাটা আমাদের লড়াকু চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছে। এটা ধরে রাখতে পারলে বড় ম্যাচেও আমরা ভালো করতে পারব।
কঠিন পর্ব চলে গেছে কি না
শরাফি: খেলার মধ্যে থাকলেও প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচ খেলে ফেললে অনেক হালকা হওয়া যায়। আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে বড় কিছু না হলেও কঠিন অংশটা চলে গেছে। আশা করি, দ্বিতীয় ম্যাচে মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকব।
ব্যাটসম্যানদের কাছে বড় ইনিংসের আশা
মাশরাফি: অবশ্যই আশা করি। অনেক দিন পর সবাই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে। তামিম-রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) বুঝতে পারছে, দুজনেরই সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল। সাকিবের ‘বড়’ ফিফটি করার সুযোগ ছিল। ওয়ানডেতে ২৮০ কিংবা ৩০০ রান তাড়া করা এখন আর কোনো ব্যাপার নয়। (দ্বিতীয় ম্যাচে) যদি আরও বড় রান করার সুযোগ থাকে, উইকেটও সহায়তা করে, তাহলে আমাদের ৩০০ করতে হবে।
প্রথম ম্যাচে ‘প্রিয়’ স্লগ সুইপে মুশফিকের আউট
মাশরাফি: ওরশক্তির জায়গা হচ্ছে এই শট। স্লগ সুইপে সে অনেক রান করে। এটা যদি বন্ধ করে দেয়, তাহলে রানের জায়গাও কমে যাবে। কোচ আর মুশফিক খুব ভালো জানে, তাদের কী পরিকল্পনা। এমনিতে ও নিজের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করে। সতীর্থ হিসেবে তার প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আশা করি, মাঠে সে যেটা করবে, যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের পক্ষেই আসবে।
প্রথম ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং
মাশরাফি: ফিল্ডিং নিয়ে অজুহাত দেওয়া কঠিন। এর জন্য খেলার মধ্যে থাকতে হবে, এমন নয়। ভেতর থেকে চাইলেই যে কেউ ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে পারে। সামনের ম্যাচে এটা ঠিক করার চেষ্টা করব। আগের ম্যাচে খারাপ ফিল্ডিংয়ের কারণ হতে পারে, শরীরী ভাষাটা ঠিক ছিল না। একটু কষ্ট হচ্ছিল। এটা অনেক সময় হয়। পরের ম্যাচে আশা করছি, আরও ভালো করব।
নিজের বোলিং সম্পর্কে
মাশরাফি: আমি সব সময় চেষ্টা করি, যত ন্যাড়া উইকেটই হোক, একটা জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে যেতে। আধুনিক ক্রিকেটে এক জায়গায় বোলিং করলেও ব্যাটসম্যানরা চড়াও হবে। তবুও মনে করি, ধারাবাহিকভাবে যদি জায়গায় বল করে যেতে পারেন, সাফল্য পাবেন। আমার মনোযোগ সব সময় এটাতেই থাকে। আর ভাগ্যের ছোঁয়ারও দরকার আছে। সেদিন ওদের ওভারপিছু ছয় রান করে লাগত। ৩০ ওভারের পর আমি আর সাকিব বোলিংয়ে আসি। ভাগ্য ভালো, আমরা সেটি ওভারপ্রতি সাত রানে নিয়ে যেতে পেরেছি।
নিজের আয়নায় অধিনায়কত্ব
মাশরাফি: আমার কাজ বোলিং ও সিদ্ধান্তগুলো স্বাভাবিকভাবে নেওয়া। এই দুটিতেই আমার মনোযোগ থাকে। আলাদা আলাদা করে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টা করি। এটা আসলে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এক-দুই বছর অধিনায়কত্ব করছি। আগের চেয়ে এখন কিছুটা নির্ভার থাকতে পারি।

কবির বিদায়


সৈয়দ শামসুল হক আর নেই

কবির বিদায়

লেখক সৈয়দ শামসুল হকের গুলশানের বাসভবনে গতকাল রাতে তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হককে সান্ত্বনা দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর l ছবি: প্রথম আলোচারদিকে রটে যায় এ খবর, সৈয়দ শামসুল হক আর নেই। গতকাল বিকেল পাঁচটা ছাব্বিশ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ করলেন আশি বছরের জীবনের সব লেনদেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ভুগছিলেন ফুসফুসের ক্যানসারে। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক, মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক ও ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হককে রেখে গেছেন।

হাসপাতাল থেকে খবর আসে, কিছুক্ষণের মধ্যেই কবিকে নিয়ে আসা হবে তাঁর গুলশানের আবাস ‘মঞ্জুবাড়ি’তে। ভয়াবহ যানজটে স্থবির তখন রাজপথ। ভিড় ঠেলে এগিয়ে যায় আমাদের মোটরসাইকেল।

মঞ্জুবাড়ি তখন ফাঁকা। শুধু বাড়ির গৃহকর্মী তারেক, শাহ পরান আর আল আমীন বিষণ্ন মনে স্থবির দাঁড়িয়ে আছে। দরজা পেরিয়ে সেই বাড়িটির দিকে যাই, যেখানে সৈয়দ হক বহুদিন বাস করেছেন। উঠোনে গোল করে রাখা হয়েছে চেয়ার। তার আগে বেশ কিছু টুল। যাঁরা একটু পর এই বাড়িতে আসবেন, তাঁদের জন্যই এই আয়োজন। উঁকি মেরে ঘরের দিকে তাকাই। আলমারিতে বই, তার ওপরের তাকে অনেকগুলো ক্রেস্ট। ঘরে বঙ্গবন্ধুর বড় একটি ছবি, আরও ছবি সৈয়দ হকের। আল আমীন সে ঘরে ঢোকে। দ্রুত হাতে ঘরের সব ছবি সরিয়ে ফেলতে থাকে। সৈয়দ হককে গ্রহণের প্রস্তুতি।
ইউনাইটেড হাসপাতালে আরও কিছুক্ষণ রাখা হবে কবিকে—এ খবর জানতে পেরে আমরা সেদিকে যাই। হাসপাতালের নিচতলায় সে সময় ভিড়। সেখানে আছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, অভিনয়শিল্পী তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, কবি তারিক সুজাত। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকেরা কথা বলছেন তাঁদের সঙ্গে। একটু আগে সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও অনেকে ছিলেন এখানে।
মেয়র আনিসুল হক বললেন, ‘এক দিনে এক শতাব্দী শেষ হয়ে গেল।’ ফরিদুর রেজা সাগর বললেন, ‘মানুষের হৃদয়ে, মানুষের চোখের সামনে সব সময় তিনি ছিলেন। আজ এক মুহূর্তে সেই যুগের অবসান হলো। কিন্তু এটাও সত্য তিনি বাঙালির হৃদয়ে আরও অনেক যুগ বেঁচে থাকবেন।’
একজন সুহৃদ এসে জানালেন, হাসপাতালের অন্য দরজা দিয়ে সৈয়দ হককে নিয়ে লাশের গাড়ি মঞ্জুবাড়ির দিকে রওনা হয়ে গেছে। গুলশান এক নম্বর গোলচত্বরের কাছে আমরা পেয়ে যাই লাশের গাড়ি। কিছুক্ষণ আমরা কবির পাশে পাশে চলি।
মঞ্জুবাড়িতে তখন একটু একটু করে ভিড় বাড়ছে। এসেছেন অভিনয়শিল্পী গাজী রাকায়েত ও আফসানা মিমি, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, কবি টোকন ঠাকুর।
সব্যসাচী লেখককে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স এল। তাঁকে রাখা হলো বারান্দায়। শোক-ভারাক্রান্ত মানুষ কাঁদতে ভুলে গেছে।
একটু পর এলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক। সৈয়দ হকের শেষ গন্তব্য নিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী টেলিফোনে কাউকে কিছু জানাচ্ছিলেন। চারদিকে কেউ সুলেখকের কীর্তি নিয়ে কথা বলছিলেন, কেউ করছিলেন ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা। নাটকপাড়ার তরুণ কর্মীরাও এসেছেন। তাঁরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন কবিকে।
শেষ গোসল করানো হবে কবিকে এখানে। তারই তোড়জোড় চলছে। এরপর আবার তাঁকে নেওয়া হবে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে।
মঞ্জুবাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গেটের সামনে শোনা গেল মো. সানাউল্লাহ মিয়ার বুকফাটা আর্তনাদ। সৈয়দ শামসুল হকের গাড়িচালক তিনি। ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর গাড়ি চালাচ্ছেন। কীভাবে সৈয়দ হক তাঁর খোঁজখবর রাখতেন, তা বলছিলেন তিনি। কান্নায় তাঁর কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল। আর আমাদের মনে পড়ছিল পরানের গহীন ভিতর-এর দুটি পঙ্‌ক্তি, ‘মানুষ কি জানে ক্যান মোচড়ায় মানুষের মন,/ অহেতুক দুঃখ দিয়া কেউ ক্যান এত সুখ পায়?’
দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে রাত নয়টার দিকে আমরা যখন মঞ্জুবাড়ি ছেড়ে আসছি, তখনো মানুষ আসছিল সেখানে।
আজকের কর্মসূচি
সকাল ১০টায় সৈয়দ শামসুল হকের লাশ নেওয়া হবে চ্যানেল আইতে, সেখানে তাঁর প্রথম জানাজা হবে। সাড়ে ১০টায় নেওয়া হবে বাংলা একাডেমিতে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জানানো হবে নাগরিক শ্রদ্ধা। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজার পর তাঁকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে জন্মভূমি কুড়িগ্রামে। সেখানে সরকারি কলেজ মাঠের পাশে কবির নির্ধারণ করে দেওয়া স্থানেই তাঁকে দাফন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক: সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মৃত্যুকে তিনি অগ্রাহ্য করেছিলেন


সৈয়দ শামসুল হক আর নেই

মৃত্যুকে তিনি অগ্রাহ্য করেছিলেন

সৈয়দ শামসুল হক l জন্ম: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ l মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬সৈয়দ শামসুল হক মৃত্যুকে অগ্রাহ্য করতে চেয়েছিলেন।
ঠিক এক সপ্তাহ আগে, গত বুধবার, ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়ে চমকে উঠেছিলাম। এই কি আমাদের সদা ঝকঝকে হক ভাই? কর্কট রোগ আর তার চিকিৎসার ধকলে ধ্বস্ত শরীর। ডান চোখের চারপাশে গাঢ় হয়ে বসেছে কালশিটে। শয্যা ঘিরে বিচিত্র নল।
বললাম, হক ভাই, কবিতার বই নিয়ে কথা হবে না? জবাব দিতে যখন মুখ খুললেন, সেই চিরচেনা সৈয়দ হক। প্রখর রৌদ্রালোকের মতো কণ্ঠস্বরে অবিকল সেই আগের তীব্রতা। বরং তার চেয়েও বেশি। বললেন, ‘হ্যাঁ, কথা তো অবশ্যই হবে, শিগগিরই; বেন্টোবক্স খেতে খেতে।’
১৯৮৭ সালে যাত্রাশিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস গত হওয়ার পর এক ব্যক্তিগত চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমাকে তুমি বলার লোক ক্রমশ কমে আসছে।’ দেশের বাইরে থেকে বাইপাস অপারেশন করে এসেছিলেন ১৯৮৮ সালে। এই অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা দেশে তখনো বিরল। বলেছিলেন, ‘এখন আর চার-পাঁচ বছর বাঁচলেও যথেষ্ট।’
এরপর আরও প্রায় তিনটি দশকজুড়ে তিনি বেঁচে ছিলেন বিপুলভাবে; বিচিত্র সৃষ্টিশীলতায় আমাদের ভরিয়ে দিয়ে। কর্কট রোগের চিকিৎসার জন্য শেষবার লন্ডনযাত্রার আগেই বোধ করি মৃত্যুর আহ্বান শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটিকে মোটেই গ্রাহ্য করেননি। বলেছিলেন, ‘আমার আরও বেশ কিছু লেখা বাকি। একটা নাটক, একটা কাব্যগ্রন্থ, দুটো উপন্যাস, আত্মজীবনীর আরও একটি পর্ব।’ মৃত্যুশয্যায় তিনি উপচে উঠেছিলেন সৃষ্টিশীলতার জোয়ারে। একটি মুহূর্ত খোয়ানোর মতোও তর সইছিল না তাঁর। লিখে গেছেন কবিতা, গান, ছোটগল্প, নাটক। একটার পর একটা, অবিরল। যতক্ষণ পেরেছেন, লিখেছেন নিজের হাতে। যখন আর পারেননি, মুখে মুখে বলে গেছেন। তাঁর স্ত্রী, লেখক-চিকিৎসক আনোয়ারা সৈয়দ হক, টুকে নিয়েছেন কাগজে।
সৈয়দ শামসুল হকের উঠে আসার পথ যেন-বা পূর্ববঙ্গের বাঙালির ইতিহাসের এক প্রতীকী রেখাচিত্র। দাদা সৈয়দ রইসউদ্দিন নিয়েছিলেন ফকিরি। যাযাবর হয়ে কুড়িগ্রামের নিজ ভিটা ছেড়ে দীর্ঘদিনের জন্য বেরিয়ে যেতেন দূরদূরান্তের মুরিদদের কাছে। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হোসাইন ধরলেন ভিন্ন পথ, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। বইও লিখলেন নিজের পেশাকে বিষয় করে। সেই ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন যে সৈয়দ শামসুল হক, তাঁর মধ্যে জেগে উঠল আরও ভিন্নতর এক তৃষ্ণা—সাহিত্যের বেদনা। তরুণ বয়সে বাবাকে হারিয়ে মা হালিমা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে এলেন নবীন রাজধানী ঢাকায়। নতুন এক ইতিহাসের ভেতর অভিষেক ঘটল তাঁর। ১৯৫০-এর দশকে ইতিহাস নতুন খাতে বইতে শুরু করেছে, যা তার গন্তব্য হিসেবে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।
সৈয়দ শামসুল হকের মধ্যে সৃষ্টিশীলতার যে তৃষ্ণা জেগে উঠেছিল, তা রেনেসাঁ-মানবদের মতো। তিনি সক্রিয়ভাবে জড়ালেন সাহিত্যকর্মে, কিন্তু তাঁর আগ্রহ উপচে পড়ল আরও নানা শিল্পমাধ্যমে। চলচ্চিত্র, গান, শিল্পকলায়।
১৯৫১ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্র-নগরী বোম্বেতে। ভিড়ে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্রকার কামাল আমরোহির নির্মাতা দলের তরুণ সদস্য হয়ে। দেশে ফিরেও এলেন ১৯৫২ সালে। আরও কিছু পরে, ঢাকার চলচ্চিত্রের উন্মেষের যুগে, হয়ে পড়লেন এক স্বপ্নদলের সঙ্গী। মাটির পাহাড় নামে একটি ছবি হবে—তার গান লিখলেন শামসুর রাহমান, সংগীত পরিচালনায় সমর দাশ, আর চিত্রনাট্য লিখলেন সৈয়দ হক। এরপরও জড়িয়ে থাকলেন আরও কত ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য আর গান রচনায়। কথায় কথায় বহুবার বলেছেন, তিনি গান লিখতে চাননি। তবু কত-না জনপ্রিয় গান তাঁর হাত থেকে বেরোল।
বন্ধু-চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে নিবিষ্টভাবে জেনেছিলেন চিত্রকলার ব্যাকরণ। খেলাচ্ছলে এঁকেছিলেন ছবি। হাত লাগিয়েছিলেন শৌখিন স্থাপত্য রচনায়।
তবু সৈয়দ শামসুল হকের আসল ক্ষেত্র ছিল সাহিত্য। সাহিত্যের সব মাধ্যমে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, এটুকু বললে তাঁর সম্পর্কে অল্পই বলা হবে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, আত্মজীবনীর বাইরেও নিজেকে প্রকাশের তীব্রতায় অবিরত আবিষ্কার করেছেন লেখার নতুন নতুন ধরন।
এ যুগে অচল মহাকাব্যের ধাঁচে লিখেছেন বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা। বড় দ্বিধায়, ছদ্মনামে, শুরু করেছিলেন পরানের গহীন ভিতর-এর পুরো আঞ্চলিক ভাষায় লেখা কবিতাগুলো। তা-ই পাঠক গ্রহণ করল সাদরে। রজ্জুপথে চলেছি বইয়ের দীর্ঘ কবিতায় ধরে রাখলেন ঢাকা নগরীর একটি কালের হৃৎস্পন্দন। কথাসাহিত্যেও বিচিত্র এক জগৎ রচনা করেছিলেন সৈয়দ হক। ‘জলেশ্বরী’ নাম দিয়ে উত্তরবঙ্গের এক স্বতন্ত্র ভূখণ্ড গড়ে তুলেছিলেন গল্পে আর উপন্যাসে। তবে তাঁর প্রতিভা শিখরে পৌঁছেছিল নাটকে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে কাব্যনাটকে, যেখানে তাঁর কাহিনি বলার দক্ষতায় এসে মিশেছে কবিতার কুশলতা। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়নূরলদীনের সারাজীবন সম্ভবত তাঁর শ্রেষ্ঠতম কীর্তি। নূরলদীনের সারাজীবন-এর সংলাপ ‘জাগো বাহে, কোনঠে সবায়’ ধীরে ধীরে হয়ে উঠল মৃত্যু-পেরোনো এক আবাহন।
কর্কট রোগের চিকিৎসা নিতে এ বছরের মাঝামাঝি অনেকটা দিন দেশের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু দেশে ফেরার জন্য সৈয়দ শামসুল হক আকুল হয়ে উঠেছিলেন। সেখান থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় ঝরে পড়েছিল সেই আর্তি। লিখেছিলেন, ‘রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে কাল থেকে চিকিৎসা শুরু হবে। অসম্ভব ব্যথা। অস্থির লাগছে। গৃহকাতরতা চেপে বসেছে।’
সৈয়দ শামসুল হক দেশে ফিরলেন। শারীরিকভাবে চলেও গেলেন। কিন্তু মৃত্যুকে অগ্রাহ্য করে আমাদের মধ্যে রয়েই গেলেন।

Bangladesh VS Afganstan Cricket Match


শততম জয়ের ম্যাচ!



.১০০ সংখ্যাটাই জাদুকরি! ৯৯-এর অসম্পূর্ণতা দূর হয়ে যায় মাত্র ১-এর যোগে। ১০১ হলেই শেষ হয়ে যায় ১০০-এর আলোচনা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আজই কি সেই ১০০-এর দিন? ওয়ানডেতে শততম জয়ের আনন্দে আজই কি ভাসবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম!

প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলেই আশাটা জোরালো। আবার প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান বলে ভয়ও আছে সামান্য। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলে গেছে দলটা। শততম জয়ের আগাম ঘোষণা তাই দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আজ সেই আশা নিয়েই ভরে উঠবে মিরপুরের গ্যালারি। বাংলাদেশ অধিনায়ক

মাশরাফি বিন মুর্তজারও সেই আশায় বসতি, ‘আমরা চেষ্টা করব, দ্বিতীয় ম্যাচেই (আজ) যেন সেটা হয়। এ জন্য আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

১৯৯৮ সালে ভারতের হায়দরাবাদে কেনিয়ার বিপক্ষে পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ে অধিনায়ক ছিলেন আকরাম খান। ৫০তম জয়টা এসেছে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে। অধিনায়ক হিসেবে সেই গর্বের মালা পরেছিলেন সাকিব আল হাসান। আর শততম ওয়ানডে জয়ের গৌরব অপেক্ষা করছে মাশরাফির জন্য। তবে মাশরাফির কথায় মনে হলো, এই মালা তিনি একা পরবেন না। বিনি সুতোয় গাঁথা অর্জনের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে দিতে চান সবার মাঝে, ‘আমি না হলেও এ সময় কেউ না কেউ তো অধিনায়ক থাকতই। এটা বাংলাদেশের জন্যই অনেক বড় অর্জন হবে।’
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শততম জয় ছাড়াও চাওয়ার আছে অনেক কিছু। নিজের ফর্মটাকে স্মৃতির পাতায় তুলে ফেলা সৌম্য সরকারের ব্যাট হাসছে না অনেক দিন। তামিম ইকবাল সর্বশেষ ম্যাচে ৮০ রানে ফিরে গিয়ে আরও একবার নিজেকে বঞ্চিত করেছেন সেঞ্চুরি থেকে। এই দুই ওপেনারের কাছেই আজ বড় ইনিংসের প্রত্যাশা। প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে জ্বলে উঠবেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ ধরে রাখবেন ফর্মের ধারাবাহিকতা। বল হাতে তাসকিন আহমেদ-রুবেল হোসেনরা শুরু থেকেই আগুনে বোলিং করার অভ্যাসে ফিরবেন। সাকিবের বল নেবে প্রত্যাশিত বাঁক। ফিল্ডিংও অমন গয়ংগচ্ছ হবে না—এ রকম আরও কত কী চাওয়ার আছে!
তবে সবচেয়ে বড় চাওয়া অবশ্যই জয়। শুধু শততম জয়ের উপলক্ষ বলেই নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করার জন্যও। মাশরাফি যেমন বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে সিরিজটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। এ জন্যই ম্যাচটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
রুদ্ধশ্বাস প্রথম ওয়ানডে জেতার পর ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের রথ সচল রাখতে বাকি দুই ম্যাচের একটি জিতলেই হয়। কিন্তু আফগানদের বিপক্ষে তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে কি চলে! আইসিসির সহযোগী দেশটির সঙ্গে টেস্ট দল বাংলাদেশের দূরত্ব স্পষ্ট করে তুলতে ৩-০ ব্যবধানের জয়ই চাই। সিরিজ শুরুর আগে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও শুনিয়েছেন সেই প্রতিজ্ঞার কথা—তিন ওয়ানডেতেই জিততে চায় বাংলাদেশ। সেই জয়গুলোও প্রথম ম্যাচের মতো হারতে হারতে জিতলে চলবে না। আফগানিস্তানের মতো দলও যদি বারবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে স্লগ ওভারে ম্যাচ নিয়ে যেতে পারে, তাহলে আর উন্নতির রেখা স্পষ্ট হলো কীভাবে? এক বছরে পর পর ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে কাঁদিয়ে ফিরিয়ে যে আত্মবিশ্বাসটা সঞ্চয় করা গেছে, সেটাতে নিশ্চয়ই কোনো ঝাঁকুনি লাগতে দেবেন না মাশরাফিরা।
আজ দল নির্বাচনেও তাই কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না বলেই শোনা যাচ্ছিল কাল বিকেল পর্যন্ত। তখন পর্যন্ত প্রথম ওয়ানডের দলটাকেই খেলানোর কথা ছিল এ ম্যাচেও। তবে রাতে জানা গেল, দল চূড়ান্ত হয়নি। সেটা নাকি ঠিক হবে আজ সকালে।
প্রথম ম্যাচটাকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারাতেই অনেক অর্জন হয়ে গেছে আফগানিস্তানের। বাংলাদেশের মতো তাই অতটা চাপ নেই তাদের ওপর। তবে শেষ ১০ ওভারের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আক্ষেপ আছে। দলের প্রতিনিধি হয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে এসে লেগ স্পিনার রশিদ খান সেই ভুল শোধরানোর কথাই শুনিয়ে গেলেন, ‘শেষ ১০ ওভারে আমরা কিছু ভুল করেছি, কিছু বাজে শট খেলেছি। পরের ম্যাচে চেষ্টা থাকবে আরও ভালো ক্রিকেট খেলার।’
ক্রিকেটে সবই সম্ভব। হতে পারে, আজ আফগানিস্তান বিরাটকায় দৈত্য হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু শততম ওয়ানডে জয়ের ক্ষুধা যাদের মনে, ঘরের মাঠে তারা কি সেটা হতে দেবে? ১০ মাস পর ওয়ানডেতে ফেরার অস্বস্তিও আজ থাকবে না। ১০০-এর জাদুকরি স্পর্শ পাওয়ার ম্যাচে সবকিছুতেই এক শতে এক শ পেতে চাইবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

Cricket News

মাশরাফির বিশ্বাস, সৌম্য ঠিক পথেই আছেন

Soumyaকদিন আগের কথা। সতীর্থরা ওয়ার্মআপ শুরু করেছেন, কিন্তু সৌম্য সরকার ব্যস্ত থিলান সামারাবীরা ও চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে। ফুটওয়ার্কে কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে, সেটিই কোচদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন বাঁহাতি ওপেনার। সমস্যার সমাধানে খানিক পরেই কোচ তাঁকে নিয়ে চললেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে। গতকাল বাংলাদেশের অনুশীলনের সময়ও বৃষ্টির মধ্যে ইনডোরে কোচের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং নিয়ে কাজ করলেন সৌম্য।

চেষ্টার কমতি নেই, কিন্তু সৌম্য প্রত্যাশিত ফলটা পাচ্ছেন কোথায়? এমনিতেই সময়টা বাজে যাচ্ছে তাঁর। আত্মবিশ্বাসটা যেন আরও টলে গেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে। কখনো তিনি আউট হচ্ছেন দুর্দান্ত কোনো বলে, কখনো বা নিজের ভুলে। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দৌলত জাদরানের লাফিয়ে ওঠা বলটা ভালোভাবে না পড়েই পুল করতে গিয়ে আউট। অথচ এই পুলেই সৌম্য কত বাউন্ডারি মেরেছেন, এগিয়ে গেছেন নান্দনিক ইনিংস গড়ার পথে। তবে কি প্রত্যাশার বিষম চাপেই ভেঙে পড়ছেন তিনি?
গত বছরটা স্বপ্নের মতো কাটানো সৌম্য কেন যেন দিগ্ভ্রান্ত! ২০১৫ সালে ১৫ ম্যাচে ৫১.৬৯ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে ৬৭২ রান করা বাঁহাতি ওপেনার এ বছর নিজেকে চেনাতে পারেননি এখনো পর্যন্ত। ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৫.৯৩ গড়ে মাত্র ২৫৫ রান। যে ওয়ানডে তাঁর প্রিয় সংস্করণ, প্রায় ১০ মাস পর সেটিতে শুরুটাও কী বাজে! সব মিলিয়ে জটিল এক ধাঁধায় পড়ে গেছেন সৌম্য। সেটির উত্তর হয়তো তিনি খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না!
দলের সবাই অবশ্য আশা করছেন, এ অবস্থাটা সাময়িক। আবারও ​সৌম্য দেখা দেবেন চেনা রূপে। আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা​ শুনে মনে হলো, সৌম্যর ওপর থেকে চাপটা কমানোরই চেষ্টা করছেন। ‘সে ক্যারিয়ারের শুরুতে যেটা করেছে, তা অপ্রত্যাশিত। ওই পারফরম্যান্স ধরে যদি এখন তাকে মূল্যায়ন করেন, ওর সঙ্গে অন্যায় হবে। দেখেছি, কেউ যদি ভালো খেলে, পরে খারাপ খেললে ১০ দিন পর তাকে নিয়ে কথা হয়। আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ১০ ম্যাচে আপনাকে বিশ্লেষণ না করলে ১১তম ম্যাচে ঠিকই অন্যভাবে বিশ্লেষণ করা শুরু করবে প্রতিপক্ষ। আমার বিশ্বাস, সৌম্য ঠিক পথেই আছে। সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। হয়তো মনোযোগ আরেকটু বাড়াতে পারে। সেটা সে করছেও’—বললেন মাশরাফি।
এই দুঃসময় এখন দুঃসহ মনে হলেও পরে এটাই সৌম্যর কাজে আসবে বলেও মনে করেন মাশরাফি, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখবেন, শুরুতে অনেকে সংগ্রাম করে। পরে পরিণত হয়ে ভালো খেলে। সৌম্য এখনো তরুণ। আগের পারফরম্যান্সের সঙ্গে না মিলিয়ে এখান থেকে শুরু করতে পারে। এই কঠিন সময়টা ওকে আরও পরিণত করবে।’

Update Cricket News

মুশফিকের ‘ঘাতক’ যখন তাঁর প্রিয় ‘বন্ধু’

স্লগ সুইপ, মুশফিকের এখনকার সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম! ছবি: প্রথম আলোআফগানিস্তানের রশিদ খানের গুগলিটা পড়তেই পারেননি মুশফিকুর রহিম। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড। কে বলবে এটিই তাঁর প্রিয় শট! স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হতেই পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই শট খেলতে গিয়ে বারবার যেভাবে আউট হচ্ছেন, তাতে প্রিয় শটটাই তাঁর কাছে হয়ে গেছে ‘প্রাণঘাতী’! এক সময় যে শট ছিল তাঁর সবচেয়ে নির্ভরতার, সবচেয়ে কাছের বন্ধু, সেটাই এখন ডেকে আনছে বিপদবার্তা।
গত বছর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জেপি ডুমিনির বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ডেভিড মিলারের ক্যাচ হয়েছিলেন মুশফিক। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও ডুমিনির বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গত জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও দেখা গেছে একই ছবি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে সিকান্দার রাজার হাতে ধরা পড়েছেন।
অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা ফিটনেস সমস্যার কারণে প্রিয় শট খেলতে আউট হন ব্যাটসম্যান। কিন্তু টেকনিকে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক কেন আটকা পড়ছেন নিজের প্রিয় শটে? অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য দাবি করছেন, এখনই এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং সতীর্থকে লাইসেন্স দিচ্ছেন তাঁর প্রিয় শটটা খেলতে, ‘ওর শক্তির জায়গা হচ্ছে ওই শট। এই শটে সে অনেক রান করে। যদি এটা বন্ধ করে দেয় তাহলে রানের জায়গাও কমে যাবে। কোচ আর মুশফিক খুব ভালো জানে ওদের কী পরিকল্পনা। সতীর্থ হিসেবে ওর প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আশা করি মাঠে সে যেটা করবে, যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের পক্ষেই আসবে।’
বারবার একই শটে আউট হলেও প্রশ্নটা উঠত না যদি মুশফিক ধারাবাহিক জ্বলে উঠতেন। এই বছর বাংলাদেশ দলের হয়ে এখনো নিজেকে চেনাতে পারেননি। ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ১৪.৮৮ গড়ে করেছেন ১৩৪ রান। পরশু ১০ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে করেছেন ৬ রান। তবে গত বছর ওয়ানডেতে মুশফিকের ফর্মটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন মাশরাফি। ২০১৫ সালটা স্বপ্নের মতোই গেছে। ১৮ ম্যাচে ৫১.১৩ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৭৬৭ রান, যেটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।
সময়টা ভালো না গেলেও তাই মুশফিকেই আস্থার কমতি নেই মাশরাফির, ‘আপনি যদি গত দেড় বছরের পরিসংখ্যান দেখেন, মুশফিকের গড় রান ৫০-এর কাছাকাছি। এই গড়ে যে রান করেছে সে রানের মধ্যে নেই, এটা বলা ঠিক কি না! আমার কাছে তো মনে হয় না।’

Football News

ওমানকে ১০–০ গোলে হারাল বাংলাদেশ

.ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশ যুব হকি দলের জয় নিয়ে সংশয় ছিল না কারওই। দেখার বিষয় ছিল জয়ের ব্যবধানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান হলো ১০-০। বিশাল এই জয় নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে গ্রুপ সেরা হয়েই বাংলাদেশ পা রাখল সেমিফাইনালে। আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিপক্ষ চীনা তাইপে।
সেমিফাইনাল-বাধাও বাংলাদেশ দল পেরিয়ে যাবে বলে হকি অঙ্গনের সবার বিশ্বাস। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়টা আসলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক। আজ মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াইয়েও থাকল এর প্রতিফলন। শুরু থেকেই ওমানে রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে একের পর এক গোল এল। ৩২ মিনিটে ৭-০! যেন গোল বৃষ্টি!
৪ মিনিটে দারুণ হিটে গোল উৎসবের সূচনাটা করলেন মাহবুব। ৮ মিনিটে আরশাদের টোকায় ২-০। ১৬ মিনিটে মহসিন ৩-০ করলেন সহজেই। ওমানের গোলরক্ষক ইব্রাহিম আল হাসনি বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। সেই সুযোগটাই নিলেন ফরোয়ার্ড মহসিন, দলের ষষ্ঠ ও অষ্টম গোলও তাঁর। রাব্বি করেছেন ৪-০ ও ১০-০। ৫-০, ৭-০, ৯-০ হয়েছে পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আশরাফুলের স্টিকে, আগের ম্যাচে যিনি চার গোল করেছেন ভারতের বিপক্ষে।
‌'এ' গ্রুপে ভারত রানার্সআপ হয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। শেষ চারে তাদের সামনে বি'গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনালও বৃহস্পতিবার। বয়স ভিত্তিক দল হলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ভিন্ন স্বাদের আমন্ত্রণ।

Cricket News


ওয়ালশের চোখে শেষ ২ ওভার

তাসকিন, রুবেলের শেষ ২ ওভারেই শুধু নয়; কোর্টনি ওয়ালশ মুগ্ধ মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিং আর অধিনায়কত্বেও। কাল মিরপুরে অনুশীলনের ফাঁকে অধিনায়ককে হয়তো সে প্রশংসাই শোনাচ্ছিলেন পেস বোলিং কোচ l প্রথম আলো২ ওভারে দরকার ২১ রান। হাতে ৩ উইকেট। আফগানিস্তানের জয়টাকেই ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু জয় নয়, শেষ ২ ওভারে যে উল্টো তাদের স্বপ্নের সমাধি রচিত হবে, সেটা কে জানত!
৪৯তম ওভার: অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা রুবেল হোসেনের হাতে বল তুলে দিলেন। স্লগ ওভারের পরীক্ষিত ‘সৈনিক’ এই পেসার। বল হাতে নিয়েই রুবেলের প্রতিজ্ঞা, ‘আর যা-ই করি, রান দেব না। ইয়র্কার মারতে হবে। যা করার, আমাকে আর তাসকিনকেই তো করতে হবে!’
৫০তম ওভার: রুবেল আগের ওভারে ৮ রান দেওয়ায় আফগানদের জন্য শেষ ওভারের সমীকরণ হয়ে যায় আরেকটু কঠিন—৬ বলে ১৩। তাসকিন আহমেদকে ডেকে সাহস রাখতে বললেন অধিনায়ক। আর বললেন, ‘উইকেট নিতে হবে।’ স্লগ ওভারে তাসকিনের শক্তিও ইয়র্কারে। তবে ইয়র্কারই বেশি মারবেন, এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেননি। ব্যাটসম্যানের মুভমেন্ট বুঝেই বল ছাড়ার চিন্তা ছিল বোলিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা তাসকিনের। সঙ্গে রুবেলের মতো রান না দেওয়ার প্রতিজ্ঞা তো ছিলই।
পরশু শেষ ২ ওভারে রুবেল-তাসকিন কী করেছেন, সেটা এখন সবার জানা। দুজনই পরিকল্পনায় সফল। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশ ড্রেসিংরুম থেকে এই দুই পেসারের বোলিং দেখে রীতিমতো মুগ্ধ। কাল অনুশীলন শেষে মিরপুর থেকে হোটেলে ফেরার আগে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলছিলেন, ‘শেষ ২ ওভারে দুজনই অসাধারণ বল করেছে। এর আগে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ওভারটা করে সাকিব খেলার গতি ঠিক করে দেয়। অন্যরাও তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।’
শেষ ওভারে তাসকিনকে ড্রেসিংরুম থেকে নির্ভার হয়ে বল করার বার্তা দেওয়া হয়। অনুশীলনে যা যা করেছেন, মনে করিয়ে দেওয়া হয় সেসব। ওয়ালশের বিশ্লেষণ, ‘সবাই চেষ্টা করছিল যার যার দিক থেকে সর্বোচ্চটা করতে। অনেক দিন ধরে আমরা খেলার মধ্যে ছিলাম না, সে জন্য সবাই একটু আড়ষ্ট ছিল। প্রথমে ওরা একটু তাড়াহুড়া করলেও পরে সবাই-ই খুব ভালো করেছে।’ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় মাশরাফি বিন মুর্তজাও ভিজেছেন তাঁর প্রশংসায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবৈধ অ্যাকশনের জন্য বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়লেও কোনো ম্যাচ মিস হয়নি তাসকিনের। কিন্তু একটা ঝড় তো ঠিকই বয়ে গেছে তাঁর ওপর দিয়ে! সেটা দারুণভাবে কাটিয়ে ওঠায় পেলেন ওয়ালশের প্রশংসা, ‘খেলার আগে সে একটু চাপে ছিল। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেই এ রকম একটা ম্যাচ খেলল। শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও ওর কাছ থেকে আমরা যা চেয়েছি, সে তাই দিয়েছে। যেভাবে ফিরে এল, এর কৃতিত্ব ওকে দিতেই হবে। তা না হলে ওর জন্য ম্যাচটা খুবই খারাপ হতে পারত, আমরাও হেরে যেতে পারতাম।’
রুবেলের জন্যও কম কঠিন ছিল না পরশুর ম্যাচ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে সর্বশেষ আন্তর্জতিক ম্যাচ খেলেছিলেন গত বছরের ১৫ জুলাই। পাঁজরের সমস্যায় এর পর থেকেই মাঠের বাইরে। প্রায় দেড় বছর পর মাঠে নেমে শুরুতে আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে গেছে সেটা। শেষ দিকে তো ম্যাচ জেতানোর জেদই ভর করেছিল তাঁর মধ্যে, ‘শুরুতে আমার, তাসকিন কারও বলই ভালো হচ্ছিল না। তাসকিন এসে বলেছিল, আমরা তো কেউই সুবিধা করতে পারছি না। তবে যা করার আমাদেরই করতে হবে। আমারও তাই মনে হয়েছে। আর এমন তো নয় যে, এ রকম পরিস্থিতিতে এদিনই প্রথম পড়েছি। আগেও আমরা এ ধরনের ম্যাচ জিতিয়েছি।’
অথচ বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে এসে প্রথম ম্যাচেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ে ওয়ালশও পড়ে গিয়েছিলেন চিন্তায়, ‘আমরা স্নায়ুচাপে ভুগিনি, তবে একটু দুশ্চিন্তা তো ছিলই।’ তবে তাঁর বিশ্বাস ছিল, বোলাররা একবার ভালো করা শুরু করলে ম্যাচ জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে। ‘ড্রেসিংরুমে আমরা আলোচনা করছিলাম, আমরা যদি দুইটা ওভার ভালো করতে পারি, উইকেট নিতে পারি, তাহলে পরিস্থিতি বদলাবে। শেষ পর্যন্ত তো অসাধারণ একটা ম্যাচই হলো’—ওয়ালশের কথায় ম্যাচ জেতার তৃপ্তি।
যে ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে মূলত শেষ ২ ওভারে। কোর্টনি ওয়ালশের নতুন দুই শিষ্যের হাত ধরে।

Football news

আমি গর্দভ নই, রোনালদোও বুদ্ধিমান’

রোনালদো গত ম্যাচে। ফাইল ছবিরোনালদো বনাম জিদান। চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের আগে এই যেন মূল শিরোনাম। বিশেষ করে জার্মান মিডিয়া তো লুফে নিয়েছে ব্যাপারটা। এই সুযোগে রিয়ালকে যতটা কোণঠাসা করা যায় আরকি। তবে রিয়ালের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জিনেদিন জিদান ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ক্লাবের চেয়ে বড় কিছু তো আর হতে পারে না।
স্প্যানিশ লিগে গত ম্যাচে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে আনেন কোচ জিদান। বিষয়টি কিছুতেই মানতে পারছিলেন না রোনালদো। মাঠেই নিজের অভিব্যক্তিতে সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ডাগআউটে বসে বসেও গজরাচ্ছিলেন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে খেলতে জার্মানিতে উড়ে গেছে রিয়াল। সেখানেও অনুশীলনে দুজনের সম্পর্কের শীতলতা বোঝা গেছে।
স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কৌতূহল। রিয়ালের জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রস বললেন, ‘সত্যিকার ঘটনা যা, সেটা অনেক বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। প্রত্যেক মৌসুমে একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে ৬০টির মতো ম্যাচ পুরোটাই খেলা সম্ভব নয়। কে খেলবে আর কে উঠে যাবে, সেটা ঠিক করার দায়িত্ব কোচের। রোনালদো পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করেছে দলের সঙ্গে, শেষ ম্যাচের আগে যেমনটা করেছিল। আগামীকাল (আজ) খেলার জন্য ও পুরো প্রস্তুত।’
জিদানও সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিক আছে। শুধু তো ক্রিস্টিয়ানো নয়; মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হলে যেকোনো খেলোয়াড়ই রেগে যেতে পারে। আমি যা সিদ্ধান্ত নিই, ওর ভালোর জন্যই। কোনো কিছুই বদলায়নি। কালকের ম্যাচের চেয়ে এসব নিয়েই বেশি কথা হচ্ছে। আর আমাদের এটা মেনেই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা নির্ভারই আছি। আমি গর্দভ নই, রোনালদোও বুদ্ধিমান। সবকিছুই ঠিকঠাক আছে।’

Saturday, September 24, 2016

Cricket,Bangladesh

সেরা পেস আক্রমণ নিয়েই নামছে বাংলাদেশ

মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি। ছবি-শামসুল হককাঁধের চোটে দলের বাইরে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দলের অন্যতম সেরা এই বোলারের অভাব অনুভব করলেও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করেন, সেরা পেস আক্রমণ নিয়েই বাংলাদেশ নামছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ছিলেন মাশরাফি, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন। পরে আল আমিনের জায়গায় দলে ঢুকেছিলেন শফিউল ইসলাম। এই বোলিং আক্রমণ নিয়েই বাংলাদেশ পেয়েছিল সাফল্য। এবার আফগানিস্তান সিরিজেও একই আক্রমণ। আজ সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানালেন, বোলিং আক্রমণ নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা, ‘আমরা সর্বশেষ বিশ্বকাপ যখন খেলেছিলাম আমাদের এই আক্রমণই ছিল। সত্যি বলতে আমরা ফিজকে মিস করব। তবে আমরা যারা আছি তাদেরও প্রমাণ করার একটা সুযোগ থাকছে। যারা বাইরে ছিল এবার তারা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে। আর এখন ওয়ানডেতে আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আমি মনে করি আমাদের সেরা আক্রমণই আছে।’
ওয়ানডেতে দুই দলের সাক্ষাতে ১-১ সমতা থাকলেও এবার এগিয়ে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। ঐতিহ্য ও শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও মাশরাফিকে ভাবাচ্ছে প্রায় এক বছর ওয়ানডে না খেলার বিষয়টি, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। আমরা গত এক বছরে কোনো ওয়ানডে খেলেনি। এখন একটা সিরিজ খেলতে নামছি। তা ছাড়া আফগানিস্তানও এখন খুব ভালো করছে। সব দিক দিয়েই সিরিজটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

News,Tangail

ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার দুই আসামির আত্মসমর্পণ

আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আরও দুই আসামি আজ শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, এই মামলার আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান ওরফে রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাসিরুদ্দিন নুরু ও সাবেক পৌর কমিশনার মাসুদুর রহমান টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রধান আসামি সাংসদ আমানুর রহমান খান গত রোববার আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংসদ আমানুর ও তাঁর তিন ভাইয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে।
গত তিন ফেব্রুয়ারি এই চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

Update News

বোলিং নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল তাসকিন-সানির


        
তাসকিন আহমেদ ও  আরাফাত সানিঅপেক্ষার অবসান। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় উতরে গেলেন তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। কাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এই সুখবর। নতুন করে দেওয়া বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন দুই বোলারই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে এখন আর তাঁদের সামনে কোনো বাধা নেই।
ভারতে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচের পর দুঃসংবাদ ঘিরে ধরে বাংলাদেশ দলকে। একই সঙ্গে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ ওঠে তাসকিন ও সানির বিরুদ্ধে। টুর্নামেন্ট চলার সময়ই ভারতের চেন্নাইয়ের পরীক্ষায় আম্পায়ারদের সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাই বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়েন দুজনই।
নিষিদ্ধ হওয়ার পর গত এপ্রিল থেকে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শুরু করেন তাসকিন-সানি। প্রায় পাঁচ মাসের প্রস্তুতি শেষে দুজন প্রথমে পরীক্ষা দেন বিসিবির বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির কাছে। দুজনই উতরে যান বিসিবির পরীক্ষায়। চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে ৫ সেপ্টেম্বর তাসকিন-সানি উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ায়। আইসিসির অনুমোদিত গবেষণাগার ব্রিসবেনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে তাঁদের বোলিং অ্যাকশনের শুদ্ধি পরীক্ষায় হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর। দুই বা তিন সপ্তাহ পর দেওয়ার কথা ছিল পরীক্ষার ফল। এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি কাল জানিয়ে দিল, বাংলাদেশের দুই বোলারের কনুইয়ের বাঁক এখন গ্রহণযোগ্য (১৫ ডিগ্রি) মাত্রার মধ্যে আছে।
এই সুখবরে দুজনই ভীষণ খুশি। তাঁদের মাথা থেকে যেন নেমে গেছে বিরাট এক বোঝা। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তাসকিনের মুখে তাই দেখা গেল উচ্ছ্বাসের ছটা, ‘অনেক খুশি লাগছে। এটা খুব কষ্টের অভিজ্ঞতা ছিল। রাস্তায় বেরোলেই মানুষ জিজ্ঞেস করত, আপনার হাত কি সোজা হয়েছে? আর খেলতে পারবেন? এখন এই প্রশ্ন আর কেউ করতে পারবে না। আর যেন না করতে পারে সেভাবে খেলার চেষ্টা করতে পারব।’
পরীক্ষায় উতরে যেতে পেরে আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে সানিকেও। মুঠোফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সেটিই বোঝা গেল, ‘মাথার ওপর থেকে বিরাট এক বোঝা নেমে গেছে। এটা আমার কাছে বিরাট আনন্দের খবর। বিশ্বকাপে অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। পরীক্ষাটা ভালো দিতে পারিনি। এবার অনেক সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। আত্মবিশ্বাস ছিল পরীক্ষায় পাস করব, করেছি।’
পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হবে ধরে রেখেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দলে তাসকিনের জন্য জায়গা রেখেছিলেন নির্বাচকেরা। স্কোয়াডের ১৪তম সদস্য হিসেবে তাই বাংলাদেশ দলে ঢুকে পড়লেন তাসকিন। এবার সিরিজটা স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্য এই পেসারের।