মুশফিকের ‘ঘাতক’ যখন তাঁর প্রিয় ‘বন্ধু’
গত বছর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জেপি ডুমিনির বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ডেভিড মিলারের ক্যাচ হয়েছিলেন মুশফিক। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও ডুমিনির বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। গত জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও দেখা গেছে একই ছবি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে সিকান্দার রাজার হাতে ধরা পড়েছেন।
অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি কিংবা ফিটনেস সমস্যার কারণে প্রিয় শট খেলতে আউট হন ব্যাটসম্যান। কিন্তু টেকনিকে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক কেন আটকা পড়ছেন নিজের প্রিয় শটে? অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবশ্য দাবি করছেন, এখনই এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং সতীর্থকে লাইসেন্স দিচ্ছেন তাঁর প্রিয় শটটা খেলতে, ‘ওর শক্তির জায়গা হচ্ছে ওই শট। এই শটে সে অনেক রান করে। যদি এটা বন্ধ করে দেয় তাহলে রানের জায়গাও কমে যাবে। কোচ আর মুশফিক খুব ভালো জানে ওদের কী পরিকল্পনা। সতীর্থ হিসেবে ওর প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা আছে। আশা করি মাঠে সে যেটা করবে, যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের পক্ষেই আসবে।’
বারবার একই শটে আউট হলেও প্রশ্নটা উঠত না যদি মুশফিক ধারাবাহিক জ্বলে উঠতেন। এই বছর বাংলাদেশ দলের হয়ে এখনো নিজেকে চেনাতে পারেননি। ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ১৪.৮৮ গড়ে করেছেন ১৩৪ রান। পরশু ১০ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে করেছেন ৬ রান। তবে গত বছর ওয়ানডেতে মুশফিকের ফর্মটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন মাশরাফি। ২০১৫ সালটা স্বপ্নের মতোই গেছে। ১৮ ম্যাচে ৫১.১৩ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৭৬৭ রান, যেটি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।
সময়টা ভালো না গেলেও তাই মুশফিকেই আস্থার কমতি নেই মাশরাফির, ‘আপনি যদি গত দেড় বছরের পরিসংখ্যান দেখেন, মুশফিকের গড় রান ৫০-এর কাছাকাছি। এই গড়ে যে রান করেছে সে রানের মধ্যে নেই, এটা বলা ঠিক কি না! আমার কাছে তো মনে হয় না।’
No comments:
Post a Comment